শুভ জন্মদিন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার মাটিডালির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলেটি চাইলেই পারতেন বিলাসিতায় জীবন কাটাতে। কিন্তু তার রক্তে মিশে ছিল জেদ আর ২২ গজের নেশা। আজ ৯ মে, মুশফিকুর রহিমের ৩৯তম জন্মদিন।
যদিও সার্টিফিকেটে তারিখটি ৯ জুন, তবে মুশফিক নিজেই নিশ্চিত করেছেন আজকের দিনটিই তার আসল জন্মদিন। ২০০৫ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে যখন লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে অভিষেক হয়, তখন ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির কিশোরকে দেখে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই ছোট্ট কাঁধেই যে আগামী দুই দশক বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভার বইবে, তা কে জানত!
দেশসেরা কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন একবার বলেছিলেন, মুশফিক হয়তো অনেকের চেয়ে প্রতিভায় পিছিয়ে ছিলেন, কিন্তু তার আজকের এই অবস্থান কেবলই কঠোর পরিশ্রমের ফসল।
গত কয়মাস আগেই শততম টেস্টের আগে মুশফিক নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি একজন বিরক্তিকর মানুষ। প্রতিদিন একই কাজ বারবার করি।’ এই যে প্রতিদিন সবার আগে অনুশীলনে আসা এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়া—এটাই মুশফিককে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। সতীর্থরা একে একে বিদায় নিলেও অনুশীলনের হাজিরা খাতায় তার নামটা আজও শীর্ষে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিক মানেই নির্ভরতা। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০১টি টেস্ট খেলার রেকর্ডটি তারই দখলে। সাদা পোশাকে তিনি শুধু রান মেশিনই নন, বরং ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করেছেন দেশের প্রথম ‘ডাবল সেঞ্চুরিয়ান’ হিসেবে।
টেস্টে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান তিনি। ১৩টি সেঞ্চুরি আর ৩৮.৮০ গড়ে ৬৫৫৮ রান—টেস্ট ক্রিকেটে তাকে দিয়েছে কিংবদন্তির মর্যাদা।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৭৪ ম্যাচে ৭৭৯৫ রান এবং ৯টি সেঞ্চুরি বলে দেয় মিডল অর্ডারে তিনি কতটা অপরিহার্য। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতেও টাইগারদের পক্ষে খেলেছেন ১০২টি ম্যাচ।
গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে যেমন বিশ্বস্ত, ব্যাট হাতেও তেমনি দলের বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ান তিনি। তার সাজানো গোছানো টেকনিক আর নিশ্ছিদ্র ডিফেন্স দেখে ক্রিকেট পণ্ডিতরা তাকে প্রায়ই ‘লিটল মাস্টার’ শচিন টেন্ডুলকারের পরিশ্রমী প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলনা করেন।
২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মুশফিকের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন এক সূর্যের উদয় হয়েছিল। তার অধীনেই টাইগাররা প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিদের টেস্টে হারানোর স্বাদ বাংলাদেশ পেয়েছিল তার কৌশলী নেতৃত্বেই। অধিনায়ক হিসেবে ৩৭টি ওয়ানডে, ৩৪টি টেস্ট এবং ২৩টি টি-টোয়েন্টিতে তিনি লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০ বছর পেরিয়েও সেই উইলোবাজ আজও ক্ষুধার্ত। পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি কেবল একজন ক্রিকেটার নন, বরং তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। শুভ জন্মদিন, মিস্টার ডিপেন্ডেবল!
