সাভারে বিক্ষোভ
ঈদের ছুটি শেষে কাজে এসে ১৮৬৪ শ্রমিক জানলেন চাকরি নেই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাভারে আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি পোশাক কারখানায় ১ হাজার ৮৬৪ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করার অভিযোগ উঠেছে। ছাঁটাইয়ের খবর জানার পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত আল-মুসলিম পোশাক কারখানার প্রধান ফটকের সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে সাভারের রেডিও কলোনী এলাকায় গ্রুপটির আরেকটি কারখানার সামনেও শ্রমিকরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।
সরেজমিনে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে শনিবার কারখানা খুললে শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিতে আসেন। কিন্তু কারখানার ফটকে একটি নোটিশ দেখতে পান তারা। পরে জানা যায়, অনেক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেয়।
একজন শ্রমিক জয়নব জানান, তিনি তিন বছর ধরে কারখানায় কাজ করছেন। ঈদের আগে এক মাসের বেতন বিকাশে দেওয়া হলেও পরে একটি এসএমএসের মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি তিন মাসের বেতন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক শ্রমিক সাগরিকা বেগম বলেন, তিনি ২০১৭ সাল থেকে আল-মুসলিম গ্রুপে কাজ করছেন। ঈদের পর এসে তিনি ছাঁটাইয়ের খবর পান। তিনি প্রায় ৯ বছরের চাকরির জন্য বকেয়া পাওনার হিসাব দাবি করেন এবং একাধিক মাসের বেতন পরিশোধের দাবি জানান।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, শ্রমিকদের শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ২৬ ধারায় তিন মাসের বেতন প্রদানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে- এমন তথ্য তিনি অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব শ্রমিক এক মাসের বেতন পাননি, তাদের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
