তিন দশক ধরে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম
মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা, মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ৪৭ নম্বর বল্লবেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে মেরামত ছাড়াই টানা তিন দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। এরই মধ্যে সম্প্রতি ভবনের ছাদের একটি বিমের ঢালাই বিকট শব্দে ভেঙে নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, আগের দিন শনিবার দিনগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ করে বিদ্যালয় ভবনের ছাদের ঢালাই বিকট শব্দে ভেঙে নিচে পড়ে। সৌভাগ্যক্রমে সে সময় বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। তবে দিনের বেলায় এমন ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে দীর্ঘ কয়েক বছর টিনশেড ঘরে পাঠদান চললেও ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়ের একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে ভবনটির কোনো সংস্কার বা মেরামত কাজ হয়নি। বর্তমানে ভবনের একাধিক স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। এছাড়াও এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই নিয়মিত তাদের পাঠদান চলছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এমন অবস্থায় আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটির অবস্থা অনেকদিন ধরেই এমন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। তাছাড়া সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমাদের অনুরোধ-বিষয়টি বেশি করে প্রচার করুন, যেন সরকারের দৃষ্টি পড়ে এবং দ্রুত সমাধান আসে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরেই জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করাতে হচ্ছে। বিষয়টি আমি একাধিকবার শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। সর্বশেষ যেদিন ঢালাই নিচে পড়ে যায়, সেদিন রাতেই সহকারী শিক্ষা অফিসারকে ফোন দিয়ে অবহিত করেছি। ভাগ্য ভালো, ঘটনাটি ক্লাস চলাকালীন হয়নি। যদি কোনো শিশুর ক্ষতি হতো, তাহলে দায়ভার তো আমাকেই নিতে হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী আনোয়ার হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, ইতিমধ্যে আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে আসছি। আমাকে আগে জানানো হয়েছিল কি-না, তা আমার স্পষ্ট মনে নেই। তবে জানানো হলে আমিও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করতাম। তবে ইউএনও স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে আপাতত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে কথা বলবো। এই ভবনে আর ক্লাস করানো সম্ভব নয়। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
