মাতৃত্ব ভাবনা নিয়ে মুখ খুললেন জয়া আহসান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে কিছুদিন ঢাকায় কাটানোর পর আবারও কলকাতায় এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। নিজের নতুন ছবি ‘ওসিডি’–এর কাজ উপলক্ষে কলকাতার এক রেস্তরাঁয় আনন্দবাজার ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি কথা বলেন অভিনয়জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু নির্যাতন, মাতৃত্ব এবং কাজের সময়সীমা নিয়ে নিজের ভাবনা সম্পর্কে।
জয়া জানান, নতুন ছবিটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম প্রিয় কাজ। ছবির চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজের মধ্যেও ‘বাতিক’ বা অবসেসিভ মানসিকতার বিষয়টি খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, নিখুঁত অভিনয়ের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগই যেন তাঁর নিজের এক ধরনের ‘ওসিডি’। সব সময় আরো ভালো করার তাগিদ কখনও কখনও মানসিক চাপ তৈরি করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোনও চরিত্রের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জয়া বলেন, তিনি সব সময় বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা করেন। এই ছবির জন্য ‘পিডোফিলিয়া’ বা শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণজনিত মানসিক ব্যাধি নিয়ে গবেষণা করতে হয়েছে। শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় দায়িত্ববোধ আরো বেড়ে যায় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের অপরাধ অনেক সময় পরিবারের ভেতরেই ঘটে এবং তা আড়াল করা হয়।
ছবিতে তাঁর চরিত্র শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার এমন একটি গল্পের ভেতর দিয়ে যেতে গিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী। বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান পৃথিবী শিশুদের জন্য খুব একটা নিরাপদ নয়।
আরো পড়ুন : আজ সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের জন্মদিন
মাতৃত্ব নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবনার কথা বলতে গিয়ে জয়া বলেন, সন্তান জন্ম না দিলেও তিনি নিজেকে ‘মা’ হিসেবেই ভাবেন। তাঁর পোষ্য প্রাণী ও গাছপালার সঙ্গে সম্পর্ককে মাতৃত্বের অনুভূতির অংশ হিসেবে দেখেন তিনি। প্রয়োজনে সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক, তবে একটি শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
সমাজের আরেকটি মানসিক সংকট হিসেবে ‘হোমোফোবিয়া’ প্রসঙ্গে জয়া বলেন, সম্পর্ক মূলত মানসিক সংযোগের বিষয়, লিঙ্গের নয়। ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতাকে তিনি সম্মান করেন।
কাজের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, অভিনয় মানসিক ও শারীরিক উভয় ধরনের শ্রমের কাজ। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ করার সংস্কৃতি থাকা জরুরি। আট ঘণ্টার কাজের ধারণাকে তিনি সমর্থন করেন, যদিও প্রয়োজন হলে বেশি সময়ও কাজ করেন।
বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের আগ্রহের কথা জানিয়ে জয়া বলেন, অভিনয় তাঁর কাছে এক ধরনের নেশা, যেখানে এক জীবনে বহু চরিত্র হয়ে বাঁচার সুযোগ থাকে।
নিজেকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা বা বয়স নিয়ে কৌতূহলকে খুব গুরুত্ব দেন না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ‘সফলতা’র চেয়ে ‘সার্থকতা’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যস্ত জীবনে মানসিক ভারসাম্য রাখতে গাছের পরিচর্যা ও মাঝেমধ্যে ‘মোবাইল ফাস্টিং’ করার অভ্যাসের কথাও তুলে ধরেন জয়া আহসান।
