ভারতের মধ্যপ্রদেশে দূষিত পানি ব্যবহার করে মৃত ৯, হাসপাতালে ২০০
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার ভগীরথপুরায় রাস্তাঘাট এখন শুনশান। এখানকার দুইশ জন বাসিন্দা হাসপাতালে ভর্তি। মারা গেছেন নয় জন। তাদের চিকিৎসার জন্য বাড়ির মানুষ হাসপাতালে। অন্তত ২৭টি হাসপাতালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন রোগীরা।
ভগীরথপুরার এই অসুস্থ মানুষরা দূষিত পানি পান ও ব্যবহার করেছেন। তাই তাদের এই অবস্থা। তাদের বাড়িতে যে পানি আসে তার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জল। ফলে অসুস্থরা সমানে বমি করতে থাকেন। তাদের ডায়রিয়া হয়, প্রবল জ্বর হয়। তারা হাসপাতালে ভর্তি হন। মোট এক হাজার চারশ জনের শরীর খারাপ হয়েছিল। দুইশজন এখনো হাসপাতালে আছেন।
অসুস্থরা সকলেই এই দূষিত পানি ব্যবহার করেছিলেন। ইন্দোরের চিফ মেডিকেল ও হেলথ অফিসার (সিএমএইচও) জানিয়েছেন, চারটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে তারা দূষিত পানি ব্যবহার করেছিলেন। ভগীরথপুরায় পানির পাইপলাইনে একটি লিক হয়েছিল। সেখান দিয়েই পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের পানি মিশে যায়।
জেলাশাসক শিবম বর্মা বলেছেন, ল্যাবরেটরির রিপোর্টে পানি দূষণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যাকটেরিয়ার জন্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তা এখনো জানানো হয়নি।
কী হয়েছিল ভগীরথপুরায়?
ভগীরথপুরায় গত সোমবার থেকে মানুষ পেটখারাপ, বমি ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করেন। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভগীরথপুরায় স্থানীয় পুলিশ চেক পোস্টে টয়লেট তৈরি হয়েছিল। সেখানকার বর্জ্য পানির পাইপলাইনে মিশে গেছে। সেখানে কনট্রাক্টর সেপটিক ট্যাংক তৈরি না করে সরাসরি একটি গর্তে পয়ঃনিষ্কাষনের বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করেছিল। সেখান থেকেই পাইপলাইনের পানির সঙ্গে দূষিত জল মিশে গেছে।
অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় দুবে বলেছেন, মোট নয়জন মারা গেছেন। যাদের চিকিৎসা চলছে, তাদের ব্যয়ভার বহনের জন্য নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
দুবে জানিয়েছেন, তারা পুরো পাইপলাইন চেক করেছেন। সব পরীক্ষার পর বৃহস্পতিবার থেকে আবার জল সরবরাহ শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে ২৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ৭১ জন ছাড়া পেয়েছেন। ২০১ জন এখনো চিকিৎসাধীন।
মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেছেন, ইন্দোরে জরুরি অবস্থা সুলভ পরিস্থিতি হয়েছে। সরকার কোনোরকম গাফিলতি সহ্য করবে না। বিষয়টি জানার পরই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত একজন উপ-প্রকৌশলীসহ দুইজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এক আইএএস অফিসারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
