ওপেক থেকে সরে যাচ্ছে আমিরাত, শঙ্কায় পড়বে সৌদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ ও ‘ওপেক প্লাস’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে। মূলত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতার মুখে নিজেদের জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই আমিরাত এই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বিদায়ে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বড় ধরনের ধাক্কায় পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই জোটে আমিরাতের অনুপস্থিতি বৈশ্বিক তেল বাজারে প্রভাব ফেলবে। ইউএইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ দ্রুততর করতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেল ও এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। আমিরাত মনে করছে, ওপেকের উৎপাদন সীমার বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে এলে তারা বাজারের জরুরি চাহিদা মেটাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার জেরে জেট ফুয়েলসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়।
বর্তমানে ওপেক ও ওপেক প্লাস বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। আমিরাত সরে গেলে বর্তমানে এই জোটে সদস্য দেশের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১-তে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্যের এই প্রস্থান জোটটির একক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
