তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে জবানবন্দিতে তিনি এই তথ্য দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান জানান, ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ডিজিএফআই প্রশাসনিকভাবে মুখ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। বিভিন্ন সময়ে তারা মন্ত্রিসভার উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বেসামরিক নাগরিকদের তাদের সেলে তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও অমানবিক নির্যাতন করত। তার মধ্যে ছিলেন তারেক রহমানও।
ইকবাল করিম বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখা অভ্যাসে পরিণত হয়। তখন তারা ভাবত যে, তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। এই মনস্তাত্ত্বিক বাধা উঠে যাওয়ায় যেকোনো ধরনের অত্যাচার করা সম্ভব হত।
আরো পড়ুন : ঐক্য সরকার নয়, একক জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি
তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেন। সাবেক সেনাপ্রধান জানান, ২০০৩ সালে র্যাব গঠনের আগে এই অপারেশনে ১২ জন মারা গিয়েছিলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৬০। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা এক ধরনের ‘লাইসেন্স টু কিল’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
এদিন মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।
গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আজ জবানবন্দি দিচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
