আলী রীয়াজ
সরকার নয়, আপনাকে-আমাকেই দায়িত্ব নিতে হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গণভোট জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি প্রকৃত অর্থে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে চাই, তাহলে সরকার নয়, আপনাকে-আমাকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আর ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের সেই সুযোগ এনে দিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘গণভোট ২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোট এই সরকারের একার বিষয় নয়। গণভোট হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন। আমি, আপনি নাগরিক হিসেবে কী ভূমিকা রাখব, সেটার প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, ‘গণভোটকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকার আর ১০/১২ দিনের বেশি দায়িত্বে থাকবে না। কিন্তু বাংলাদেশ পরিবর্তনের জন্য যে ১৪০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছে, যারা গুম হয়েছে, খুন হয়েছে যে মায়ের বুক খালি হয়েছে, তারা আপনাকে-আমাকে একটি দায়িত্ব দিয়ে গেছে। সেই দায়িত্ব আমাদের অনুভব করতে হবে।’
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, ‘২০১৯ সালের জানুয়ারির সংবাদপত্রগুলো পড়লে বিচার বিভাগের ভয়াবহ অবস্থা বোঝা যায়। গ্রামের একজন মানুষ গায়েব মামলায় জামিনের জন্য ঢাকায় ছুটেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বলছে- বিভাগে বিভাগে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করতে হবে, উপজেলায় আদালত থাকতে হবে। ইনসাফ চাইলে আদালত মানুষের দোরগোড়ায় নিতে হবে।’
দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘১৬ বছরে যে পরিমাণ টাকা লুট হয়েছে, তা দিয়ে দেশের সব মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু দুদককে কার্যত বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত করা হয়েছিল। কারণ কমিশন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় নিয়োগ পেতেন। জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সংসদের ফাইনান্সিয়াল ওভারসাইট কমিটিগুলো বিরোধী দলের সভাপতিত্বে হবে, যেন ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা যায়।’
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন প্রসঙ্গে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থায় একজন দণ্ডিত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাগজে সই পেলেই মুক্ত হয়ে যেতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদ বলছে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত একটি কমিটির মাধ্যমে হবে, যেখানে ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মতির প্রয়োজন হবে।’
সংবিধান সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধনকে ছেলে খেলায় পরিণত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি ঠেকাতে তিনি উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, ‘উচ্চকক্ষ থাকলে সংবিধান সংশোধনে বিস্তৃত ঐকমত্য প্রয়োজন হবে। প্রতিটি ভোটের মূল্য বাড়বে।’
