সাবেক সেনাপ্রধান
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের ভারত-আ. লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। ছবি : সংগৃহীত
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা বাহিনীর মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়ে ওঠে এবং সিনিয়র-জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাজন ব্যাপক আকার ধারণ করে বলে জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে তিনি এই তথ্য দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে র্যাব গঠনের পূর্বে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য অপারেশন ক্লিন হার্টে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সেনাসূত্র অনুযায়ী এই অপারেশনে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী ৬০ জন মারা যান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়, যা “হত্যার লাইসেন্স” হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইকবাল করিম বলেন, ২০০৭ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির বয়স বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে সংঘাতের পর ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়। ২০০৭–২০০৯ সালের মধ্যে ডিজিএফআই দেশে মুখ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে জড়িয়ে বিএনপির তারেক রহমানকে উঠিয়ে এনে নির্যাতন করা হয়। এ সময় বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে আটক রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়।
তিনি জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। বিদ্রোহ দমন ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় আনুমানিক ৫০ জন মারা যান। পরে শেখ হাসিনা সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন এবং সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তার আত্মীয় মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহম্মেদ সিদ্দীককে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।
সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দিতে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন, সিনিয়র-জুনিয়র বিভাজন, আধিপত্যবোধ ও উপরের আদেশ অন্ধভাবে পালন করার প্রবণতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়।
এভাবে জবানবন্দি তারেক রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ওপর নির্যাতনের এবং সেনা ভেতরে বিদ্বেষ ও বিভাজনের চিত্র তুলে ধরে।
