প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে বিভিন্ন দেশ। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় জ্বালানি সরবরাহেও। ফলে জ্বালানি তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। যদিও দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, তবুও জ্বালানির অভাবে পুরো সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমলসহ দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটেরও নিচে নেমে যেতে পারে।
আরো পড়ুন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে যা বললেন মন্ত্রী
পিডিবির তথ্যমতে, জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও এপ্রিল ও মে মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এর বিপরীতে সম্ভাব্য উৎপাদন দাঁড়াতে পারে মাত্র ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
গত শনিবার, যা ছিল সরকারি ছুটির দিন, সেদিন সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। দিনের বেলায় লোডশেডিং ছিল প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট, আর রাতে তা একপর্যায়ে ১০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
বিশেষ করে ঢাকা শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি দেখা যাচ্ছে। মার্চের শুরুতে দেশে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে আবার লোডশেডিং বাড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং তাপমাত্রা সহনীয় থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা আরো বাড়তে পারে, যা লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
