×

জাতীয়

হাসপাতালে অনিয়মই নিয়ম, ঝুঁকিতে রোগীরা

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

হাসপাতালে অনিয়মই নিয়ম, ঝুঁকিতে রোগীরা

ছবি: সংগৃহীত

অবকাঠামোগত ত্রুটি, অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা রোগীদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল সব জায়গায় একই অবস্থা।

সম্প্রতি ৬ নবজাতক প্রাণ দিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরল রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্রটি। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ জরুরি অপারেশন থিয়েটারের (ইমার্জেন্সি ওটি) মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পাশাপাশি অন্য রোগীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

চলতি বছরের ২০ মে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় খুমেক হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আর ১৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট এক ঘণ্টা কাজ করে। এর আগে ২০১৯ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালে অগ্নিনির্বাপক-ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত ত্রুটিতে ৪ শতাধিক হাসপাতাল চিহ্নিত করে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। অগ্নিকাণ্ডসহ ঝুঁকিপূর্ণ ওই হাসপাতালগুলোকে বারবার নোটিশ দেয়া হলেও বিষয়টি যে আমলে নেয়া হয়নি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাই তা বলে দিচ্ছে।

এদিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলাসহ হাসপাতালের বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে বলে ৩০ মে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়নি। সন্তানহারা মায়েদের বক্তব্য নেয়া জরুরি। সেই কাজটি বাকি থাকায় তদন্ত কমিটিকে আরো ৩ দিন সময় দেয়া হয়েছে। আগামী ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ বেশ কিছু অসংগতি উঠে এসেছে। এছাড়া ঘটনার রাতে ওয়ার্ডে প্রায় দুই ঘণ্টা এসি বন্ধ ছিল এবং এ সময় কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না বলেও তদন্তে জানা গেছে। তিনি জানান, পরিদর্শনে হাসপাতালের কলেজ ভবনের ৮ম তলায় একটি বেকারি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই কারখানা থেকে নির্গত গ্যাস নবজাতকদের কোনো ক্ষতির কারণ হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান জানিয়েছিলেন, ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গুরুতর গাফিলতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তদন্তে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত ত্রুটিসহ নানা অনিয়মও ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি।

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকার রমনা থানায় মামলা হয়। মামলায় অবহেলাজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। নিহত এক নবজাতকের স্বজন গত বুধবার রাতে বাদী হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এছাড়া এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং দেশের সব হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান।

এছাড়া গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জরুরি চিকিৎসা সেবার মান যাচাই, অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত পুরনো সরঞ্জাম মেরামত, নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এই ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনো পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন না থাকায় প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী, এমনকি স্বজনহারারা।

বিরোধিতায় আটকে আছে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগী সুরক্ষায় ২ আইন : স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রায় ৪৫টি আইন জড়িত। কিন্তু স্বাস্থ্য সেবা সুরক্ষায় পূর্ণাঙ্গ কোনো আইন নেই। ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স দিয়েই চলছে কাজ। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আইনের খসড়া ২০১৪ সাল থেকে শুরু হলেও চিকিৎসক সমাজ এই আইনের বিষয়ে বিভিন্ন আপত্তি উত্থাপন করে আসছিল। সরকার স্বাস্থ্যসেবাগ্রহীতাদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব অবহেলা এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষার বিষয়ে আইনি প্রতিকারের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন নামে একটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু তা এত বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

সর্বশেষ, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান এবং রোগীদের সুরক্ষায় ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং অপরটি ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫’ এই দুটি নতুন খসড়া আইন প্রস্তাব করে। রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ আইনের খসড়ায় বলা হয়, যদি কোনো স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসাসেবা দানকারী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা চরম অবহেলার কারণে এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হয় বা মৃত্যু ঘটে, তাহলে সেটি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। সাধারণ অবহেলার কারণে কোনো ক্ষতি হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এ ধরনের বিষয় দেওয়ানি প্রতিকার বা পেশাগত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনের খসড়ায় বলা হয়, যদি কেউ পরিকল্পিতভাবে বা অন্যদের সঙ্গে মিলিত হয়ে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা বা সহিংসতা চালায়, কিংবা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আরো বলা হয়, যদি এই ধরনের হামলায় কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি হত্যার জন্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্‌ম ফর পিপলস হেলথের (ডিপিপিএইচ) আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব ভোরের কাগজকে বলেন, ৬ নবজাতের মৃত্যুর ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। তদন্ত কমিটির কাজ এখনো চলমান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এসি থেকে গ্যাস লিকেজ হয়েছে। কখনো বলছে, এসি বন্ধ করে দেয়ার হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ভ্যান্টিলেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যদি তাই হয় তবে আমি বলবো এই মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। সেইসঙ্গে সরকারেরও। কেন না, বিষয়টি তারা তদারকি করেনি। ভবনটির অবকাঠামোগত ত্রুটি আছে। হাসপাতালের উপরে বেকারির সন্ধান মিলেছে। প্রত্যেক হাসপাতালে ক্যান্টিন কিংবা রোগীদের জন্য নিজস্ব বেকারি থাকে। তবে সেটি বাণিজ্যিকভাবে নয়। এখন দেখা দরকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে যে বেকারিটি, সেটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হতো কিনা। যদি তা হয়ে থাকে তাহলে সেটি অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইন বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন ভোরের কাগজকে বলেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, শ্রম অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং রাজউক কর্তৃপক্ষের। সঠিকভাবে আইন মেনে ভবন নির্মাণ হয়েছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব রাজউক কর্তৃপক্ষের। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা, তা দেখবে ফয়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। শ্রমিকদের জন্য কর্ম পরিবেশ সঠিক আছে কিনা এটি শ্রম অধিদপ্তর দেখবে। আর স্বাস্থ্য সেবা ঠিকভাবে আছে কিনা, সেই বিষয়টি তদারকি করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু বিষয়গুলো যে মানা হচ্ছে না, তা সম্প্রতি আদ্-দ¦ীন হাসপাতালই প্রমাণ। হাসপাতালের উপর বেকারি কীভাবে হলো?

খসড়া আইন কমিটিতে কাজ করা এই আইনজীবী আরো বলেন, দেশে স্বাস্থ্যের কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন নেই। ১৯৮২ সালের অর্ডিন্যান্স দিয়েই কাজ চলছে। এত বছরেও আমরা রোগী সুরক্ষায় আইন পেলাম না। কেউ চিকিৎসা অবহেলায় মারা গেলে সেক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নাই। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি বিভিন্ন লোকের বাধার কারণে আইনটি হয়নি।

অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত ত্রুটিতে ৪ শতাধিক হাসপাতাল : ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ৪টি অঞ্চলে থাকা হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করে একটি তালিকা তৈরি করে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। এরপর একই বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে সংস্থাটি। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সক্ষমতার দিকটি পরিদর্শন করে এগুলোকে মোট ৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডের ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ হাসপাতাল হিসেবে ১৭৩টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ২৪৯টি এবং সন্তোষজনক হিসেবে মাত্র ১১টি হাসপাতালকে চিহ্নিত করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্থাপনের বিষয়ে এ পর্যন্ত ৩ দফা নোটিশ এবং করণীয় নির্দেশক স্মরণিকা দেয়া হলেও তা আমলেই নেয়নি হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ। তালিকায় ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ হাসপাতালের মধ্যে ছিল জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি, মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টার, হাইটেক মর্ডান সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল, এস.পি.আর.সি অ্যান্ড নিউরোলজি হাসপাতাল, ফার্মগেটের আল রাজী হাসপাতাল, ব্রেইন অ্যান্ড লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, তেজগাঁও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সি পি এইচ ডি জেনারেল হাসপাতাল, কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, গুলশানের প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক, প্রমিসেস মেডিকেল লিমিটেড, গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিক, আর এ হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল ইত্যাদি।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সাবেক বিএসএমএমইউ), বারডেম হাসপাতাল, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, আগারগাঁও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, নাজিরা বাজার মাতৃসদন হাসপাতাল, মহাখালির আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট, মনোয়ারা হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এম.এইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ, ল্যাবএইড হাসপাতাল, পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিরপুরের মেরিস্টোপ বাংলাদেশ, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর হলি ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক কমপ্লেক্স, সিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সরকারি ইউনানী আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতাল, ধানমন্ডি কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিএসওএইচ হাসপাতাল, প্যানোরমা হসপিটাল লিমিটেড ও ধানমন্ডি মেডি এইড জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড।

ফায়ার সার্ভিস ওয়্যার হাউস সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব হাসপাতাল ভবনের ধারণক্ষমতা, বেইজমেন্ট আছে কিনা, সাধারণ সিঁড়ির সংখ্যা ও প্রশস্ততা, জরুরি নির্গমন সিঁড়ির সংখ্যা, লিফটের সংখ্যা, জেনারেটর রুম, ট্রান্সফর্মার রুম, সুইচ গিয়ার রুম, পাম্প রুম, ফায়ার কন্ট্রোল রুম আছে কিনা, প্রতি তলায় স্মোক/হিট ডিটেক্টর আছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ঝুঁকি নিরূপণ করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বঙ্গোপসাগরে মিসাইল সদৃশ্য বস্তু পেয়ে পুলিশে ফোন

বঙ্গোপসাগরে মিসাইল সদৃশ্য বস্তু পেয়ে পুলিশে ফোন

স্কুলে জলাবদ্ধতা, মাঠ ভরাট ও রাস্তা উন্মুক্তের দাবি

স্কুলে জলাবদ্ধতা, মাঠ ভরাট ও রাস্তা উন্মুক্তের দাবি

ডাস্টবিন ফাঁকা, পুকুরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ

অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ডাস্টবিন ফাঁকা, পুকুরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ

সম্পর্ক জোড়া লাগাতে বলিউড সিনেমায় ‘চীন-বিদ্বেষ’ নিষিদ্ধ

সম্পর্ক জোড়া লাগাতে বলিউড সিনেমায় ‘চীন-বিদ্বেষ’ নিষিদ্ধ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App