ঢাকা ছেড়ে নিজের শহরে গিয়ে থাকতে চান মির্জা ফখরুল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা শহর আর বাসযোগ্য নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশের রাজধানী ছেড়ে নিজের জেলার শহরে গিয়ে থাকার ইচ্ছার প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘দক্ষিণের জানালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঢাকা আমাদের সবার বসার জায়গা। কিন্তু ঘর থেকে বের হলেই দূষিত বাতাস। পাবলিক হাসপাতালে ঢোকাই যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। বুড়িগঙ্গার কাছে এখন আর যাওয়া যায় না, এত দূষণ আর দুর্গন্ধ! আমার মনে হয়, ঢাকার সব রোগের মূলেই রয়েছে বুড়িগঙ্গার পানি।’
তুরাগ ও শীতলক্ষ্যার অবস্থাও একই বলে মনে করেন তিনি।
বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করতে কোনো প্রকল্প তৈরি হচ্ছে না বলেও আক্ষেপ করে ফখরুল বলেন, ‘নীতিনির্ধারকরা হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পর প্রকল্প করছেন, কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন জরুরি। প্রকল্প শেষ হলেই যেন সব শেষ হয়ে যায়, এমনটা যেন না হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এক হাজার মিটার নিচে নেমে গেছে, যা যেকোনো ভূমিকম্প বা বড় দুর্ঘটনায় পুরো শহর ধসে দেওয়ার মতো ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।’
‘দক্ষিণের জানালা’ আন্দোলনের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলন নগরবাসীকে আলোড়িত করবে। তবে শুধু আন্দোলন নয়, বাস্তবায়নে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহর আমাদের সবার, এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আমি যদি বদলাই, ঢাকা বদলাবে।’
তিনি বলেন, তারেক রহমান পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর গঠনে ইতোমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-কে প্রাধান্য দিয়ে জনগণকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে চান। একটি আধুনিক, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আরও বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণকে বলা যায় আদি ঢাকার অংশ। ঢাকার অধিকাংশ ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানই এখানে। একসময় সবুজে ভরপুর ও ফুলের বাগানে সাজানো ছিল এই পুরান ঢাকা। আমরা চাই, আদি ঢাকাকে তার পুরোনো রূপ ফিরিয়ে দিতে।’
হকার ও ফুটপাতমুক্ত নগর গড়ার বাস্তবমুখী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারা ঢাকা শহর হকারে ও রিকশায় পরিপূর্ণ করা যাবে না। ফুটপাত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে মানুষ হাঁটার জায়গা পায়। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও আমরা ভাবছি।’
তিনি বলেন, ‘আসুন, একসঙ্গে যাত্রা শুরু করি। ইনশাআল্লাহ, দক্ষিণের জানালা খুলবে এবং সেই জানালা দিয়ে আমরা মুক্ত বায়ু গ্রহণ করব। এই ঢাকা শহর আমরা পরিবর্তন করব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ।
