ট্রাক্টরে মাটি পরিবহনে নষ্ট রাস্তা, মাঠের ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা
আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ)
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর আত্রাইয়ে অবাধে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে হাঁটু পর্যন্ত কাদা জমে যাওয়ায় বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান মাঠ থেকে ঘরে তুলতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের কয়সা গ্রামটি ভবানীপুর-শাহাগোলা পাকা সড়কের নিকটবর্তী একটি জনবহুল গ্রাম। গ্রামের মাঝ দিয়ে জনসাধারণের চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তাটি শুধু কয়সা নয়, বরং তারাটিয়া, বড়ডাঙ্গা, হাতিয়াপাড়া, মির্জাপুর ও মাগুড়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের মাঠে যাতায়াতের প্রধান পথ। এই পথ দিয়েই কৃষকদের সকল প্রকার কৃষি পণ্য পরিবহন করতে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির কিছু অংশ আরসিসি ঢালাই করা থাকলেও প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ মিটার পথ এখনো কাঁচা বা মেঠো পথ হিসেবে রয়ে গেছে। সম্প্রতি কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠের একটি পুকুর খনন করে সেই ট্রাক্টর বোঝাই মাটি প্রতিনিয়ত এই রাস্তা দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। লাগামহীন ট্রাক্টর চলাচলের ফলেই রাস্তার এই বেহাল দশা।
কয়সা গ্রামের আব্দুস ছালাম জানান, গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। আসলাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই রাস্তার অবস্থা খারাপ। ধান ঘরে তোলা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাস্তার কারণে শ্রমিকদের দ্বিগুণ মজুরি দিতে হচ্ছে, আবার উৎপাদিত ধান বাজারে নিতে না পেরে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ইমাম হোসেন তিনি জানান, রাস্তাটি আগে মোটামুটি চলার মতো ছিল, কিন্তু পুকুর খননের মাটি ট্রাক্টরে পরিবহনের পর থেকেই এটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, রাস্তাটির কিছু অংশে ইতোমধ্যে আরসিসি ঢালাই করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশের সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে পুরো রাস্তাটি আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে। তখন এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ আর থাকবে না।
