নারীসহ আটক সেই যুবদল নেতার জামিন, দল থেকে বহিষ্কার
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুরে এক নারীসহ নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রেজাউল করিমকে (৪২) আটককে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আপত্তিকর অবস্থার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে মাদক সংশ্লিষ্টতার আলামত থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ মাদক মামলা না দিয়ে তাদের ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠায়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিকেলেই জামিনে মুক্তি পান আটক যুবদল নেতা ও ওই নারী।
এ ঘটনায় যুবদল নেতা রেজাউল করিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোল গ্রামের এক নারীর বাড়িতে যান রেজাউল করিম। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় তারা দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতেই সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়িতে মাদকের আসর বসত এবং আটক যুবদল নেতা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে নারীকে একটি সিগারেটে গাঁজা ভরতে এবং যুবদল নেতাকে ওই নারীকে টাকা দিতে দেখা যায়।
তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কোনো মাদক বা অর্থ জব্দ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে আলামত থাকা সত্ত্বেও তা জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী মনিরুল ইসলাম ও আল-আমিন বলেন, “ঘরের ভেতরে মাদক ও টাকার উপস্থিতি আমরা দেখেছি। কিন্তু পুলিশ কোনো আলামত জব্দ করেনি। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় কোনো বাদী না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে আটক নারীর পরিবারের দাবি, গহনা বন্ধক সংক্রান্ত টাকার লেনদেন করতে গিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল করিমের বড় ভাই ও নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক বলেন, “সক্রিয় রাজনীতির কারণেই আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”
এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পরও কেন নিয়মিত মাদক মামলার পরিবর্তে ১৫১ ধারায় আটক দেখানো হলো—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
