সেলিনা আহমেদের এক জোড়া কবিতা
সেলিনা আহমেদ
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
সেলিনা আহমেদের এক জোড়া কবিতা
২৫ মার্চ — এক চিলতে সময়
গাছের পাতাগুলো যেন
বিড়বিড় করে কথা বলছিল—
আমি থমকে যাই,
কি এমন ঘটেছিল সেই রাতে?
না, আমি কবিতা লিখছি না—
আকাশ আজ গাঢ় নীলের বিষণ্নতায় ঢাকা,
নির্বাক ইতিহাস----
ছড়িয়ে আছে দিগন্ত জুড়ে।
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা—
এত স্থির কেন আজ?
তরঙ্গগুলো চুপি চুপি
কানাকানি করে যায়—
অজানা আতঙ্কের কথা।
পাখিরা ডাকে না,
দোয়েল-শ্যামা নিশ্চুপ খেলায় মগ্ন,
ঈগলের ধারালো নখও
আজ আর ঝাঁপিয়ে পড়ে না শিকারে—
প্রকৃতি যেন স্তব্ধ, হতবাক।
পুকুরের জলে গজার মাছ,
খেতের ধারে শিয়ালের আনাগোনা—
সবই থেমে গেছে এক অদৃশ্য ভয়ে,
লেজ গুটিয়ে আছে বন্যতা।
আমি বলি—
আমি তো কবিতা লিখছি না—
এ এক ধাঁধা,
২৫ মার্চের সেই এক চিলতে সময়,
হৃদয় কাঁপানো বিস্মৃত স্মৃতি।
শকুনেরা জানে—
কোথায় লাশ পড়ে আছে,
তাদের করাল দৃষ্টি
ছড়িয়ে আছে বাংলার আনাচে-কানাচে।
আজ আর বদ্ধভূমির আর্তনাদ শোনা যায় না,
শহীদের কান্নাও স্তব্ধ—
তবু ইতিহাসের ক্ষত
মগজে গেঁথে থাকে নীরব আগুন হয়ে।
২৫ মার্চ—
একটি রাত নয়,
একটি রক্তাক্ত স্মৃতি,
যা এখনো কাঁপিয়ে দেয় হৃদয়...
নীল জলে
ভাবনার অন্তরালে
মনের স্বপ্ন জুড়ে
বিরাজ করেছিল এক অনন্ত আকাশ—
নীলিমায় নিলে স্নিগ্ধ দিগন্ত
ফুলের সৌরভে মুখরিত
তোমার অসীম ভালোবাসা।
------আজ বৈরী হওয়ায়
এক চিলতে সংশয়—
তুমি আমায় ছেড়ে যাবে না তো?
কখনো ভুলে যাবে না তো?
কি যে বলো!
ভরা পূর্ণিমায়
যেভাবে ধরে রেখেছি
তোমার দুটো হাত—
এভাবেই থাকবো
চিরকাল।
--------আমার খুব ভয় হয়…
ভাঙা–গড়ার মেলা বসেছে ভুবনে,
সংসার যেন পুতুল খেলা।
অশ্লীলতা অবলীলায়,
মূল্যহীন—
নীল জলে আঁকা
-ঠিক বলেছ…
ভালোটা যেন নিংড়ানো।
দৈনন্দিন লীলায়
হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধ।
দেখো ফেসবুকে—
ক্রিকেটাররা খেলছে মাঠে,
স্ত্রীরা খেলছেন ফেসবুকে—
কথাটা…
ভয়ংকরভাবে গ্রহণযোগ্য!
--------আমি ঘৃণা করি—
পরস্ত্রীকাতর
চেঁছড়া নারী-পুরুষ!
বিবেক বিকিয়ে দিয়ে
নষ্ট করে মন—
অসভ্যতার আগুনে পুড়ছে আপনজন।
গোপনে কেঁদে উঠে বিশ্বজগৎ
কলুষিত চারদিক,
কেমনে এত নিচে নামে
মানুষের মানবিক!
হাত দুটো দাও, প্রিয়তম—
আরেকবার বুকে চেপে রাখি।
নীল যমুনায় ভাসুক
জোছনার তরী—
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে
------ভালোবাসা বিলীন
নীল সীমান্তে…
অস্তিত্বের শিকড়
ভারসাম্যহীন।
জীবন–যৌবন
শেওলার মতো ভেসে চলে।
নাগো না—এভাবে বলো না!
তুমি যে হিমালয়—
তোমার ছায়ায়
আমার আশ্রয়।
এই সমাজ
রক্ষা করতেই হবে!
নারী- আর কত লাঞ্ছিত হবে?
আর কত
---------ওহে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান—
পাপকে করো পৃষ্ট!
নারীকে করো সম্মান!
এসো প্রিয়তম—
হাতে হাত রেখে
ওয়াদা করি।
------ভালোবাসি—
ভালোবাসবো—
এমন করে।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে
নাম রেখে যাবো।
আমরা নারী—
-----আমরা পুরুষ—
(দুইজন একসাথে)
লেলিহান দৃষ্টি
হিমাদ্রির নীল জলে
নিক্ষেপ কর—নিক্ষেপ কর!
ফিরিয়ে দাও মায়ের শুভ্র আঁচল
ফিরিয়ে দাও—
নচেৎ ধ্বংস হবে
সাজানো বসুমতি মা—
