×

বিশেষ সংখ্যা

সুজন আজমের এক জোড়া কবিতা

Icon

সুজন আজম

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম

সুজন আজমের এক জোড়া কবিতা

সুজন আজমের এক জোড়া কবিতা

স্বাধীনতার লাইসেন্স

রাষ্ট্র আমাকে বলল—
“তুমি স্বাধীন।”
আমি বললাম—
“কাগজটা দেখান।”
তারা আমাকে একটা ফাইল দিল—
মোটা, ভারী,
ভেতরে অসংখ্য ধারা, উপধারা, ব্যতিক্রম—
স্বাধীনতা সেখানে আছে,
কিন্তু শর্তের পরে,
কমার পরে,
আর কখনো কখনো বন্ধনীর ভেতরে।
আমি পড়তে পড়তে বুঝলাম—
স্বাধীনতা একা আসে না,
তার সঙ্গে আসে
নিয়ন্ত্রণের ছোট ভাইরা।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—
“আমি কি যেকোনো কথা বলতে পারি?”
তারা বলল—
“অবশ্যই—
যতক্ষণ না সেটা শোনা যায়।”
আমি তখন ফিসফিস করে বললাম—
“আমি স্বাধীন।”
কেউ শুনল না—
তাই কেউ বাধাও দিল না।
আমি একটু জোরে বললাম—
“আমি প্রশ্ন করতে চাই।”
তারা কাছে এসে বলল—
“আপনার কণ্ঠস্বরটা একটু কমান,
এটা জনশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে।”
আমি ভাবলাম—
স্বাধীনতা কি শব্দের উচ্চতা দিয়ে মাপা হয়?
নাকি ভয়ের গভীরতা দিয়ে?
একদিন আমি দেখলাম—
একটা পাখি উড়ছে আকাশে,
তার কোনো লাইসেন্স নেই,
কোনো অনুমতি নেই—
তবু সে উড়ছে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম—
“তুমি কি স্বাধীন?”
সে নিচে তাকায়নি,
শুধু উড়ে গেছে—
কারণ সত্যিকারের স্বাধীনতা
প্রশ্নের উত্তর দেয় না,
উত্তরটাকেই অপ্রয়োজনীয় করে দেয়।
শেষে রাষ্ট্র লিখল—
“ব্যক্তি: সীমিত স্বাধীনতা ভোগকারী।”
আমি মনে মনে কাটাকুটি করে লিখলাম—
“স্বাধীনতা: এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়।”


#


সংবিধানের ফুটনোটে আমার জীবন

রাষ্ট্র বলল—
“তোমার সব অধিকার সুরক্ষিত।”
আমি খুঁজে দেখলাম—
অধিকারগুলো আছে,
কিন্তু সবই ফুটনোটে লেখা,
ছোট হরফে,
যেখানে চোখ পৌঁছায় না,
শুধু বিশ্বাস পৌঁছায়।
আমি জিজ্ঞেস করলাম—
“আমার কণ্ঠ কোথায়?”
তারা বলল—
“মাইক্রোফোন আছে, বলো।”
আমি বললাম—
কিন্তু শব্দ বের হওয়ার আগেই
কেউ ভলিউম কমিয়ে দেয়—
এটা কি প্রযুক্তিগত সমস্যা,
নাকি রাজনৈতিক নীরবতা?
তারা হাসল—
যেন প্রশ্নটা খুবই শিশুসুলভ।
একদিন আমি দেখলাম—
আমার ছায়াটাও আমাকে অনুসরণ করছে না,
কারণ আলোটা নিয়ন্ত্রণ করে
অন্য কেউ।
আমি তখন বুঝলাম—
স্বাধীনতা মানে শুধু হাঁটা না,
স্বাধীনতা মানে নিজের ছায়াটাকেও
নিজের মতো চলতে দেওয়া।
রাষ্ট্র আবার বলল—
“তুমি নিরাপদ।”
আমি চারপাশে তাকালাম—
দেয়ালগুলো খুব উঁচু,
দরজাগুলো খুব শক্ত,
আর জানালাগুলো
ভেতর থেকে বন্ধ।
আমি বললাম—
“এটা নিরাপত্তা নয়,
এটা তো সুন্দরভাবে সাজানো বন্দিত্ব।”
তারা নোট নিল—
“ব্যক্তি: অতিরিক্ত সচেতন।”
আমি হাসলাম—
কারণ এই দেশে
অচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি,
আর সচেতনতা
একধরনের অপরাধ।
শেষে তারা বলল—
“তুমি কি সন্তুষ্ট?”
আমি একটু ভেবে বললাম—
“আমি এখনো মানুষ হতে চাই।”
তারা ফাইল বন্ধ করল—
কারণ এই উত্তরের
কোনো সরকারি ফরম্যাট নেই।

টাইমলাইন: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সিদ্ধার্থ শঙ্কর ধরের এক জোড়া কবিতা

সিদ্ধার্থ শঙ্কর ধরের এক জোড়া কবিতা

রুবেল কুদ্দুসের এক জোড়া কবিতা

রুবেল কুদ্দুসের এক জোড়া কবিতা

সফিক রহমানের  এক জোড়া কবিতা

সফিক রহমানের এক জোড়া কবিতা

বাঞ্ছারামপুরে রিপোর্টার্স ক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন

বাঞ্ছারামপুরে রিপোর্টার্স ক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App