নারী খেলোয়াড়দের গোপনে ভিডিও করে আজীবন নিষিদ্ধ কোচ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ইউয়েফা) চেক প্রজাতন্ত্রের নারী ফুটবল দলের কোচ পেত্র ভ্লাচোভস্কিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে। নিজের দলের নারী খেলোয়াড়দের গোপনে ভিডিও করার অপরাধে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ইউয়েফার কন্ট্রোল, এথিক্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বডি (সিইডিবি) এক বিবৃতিতে জানায়, সম্ভাব্য অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তের পর তারা ভ্লাচোভস্কিকে ‘আজীবন সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,‘সিইডিবি এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার জন্য ফিফাকে অনুরোধ জানানোর এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পেত্র ভ্লাচোভস্কির কোচিং লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
চেক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে’তে ভ্লাচোভস্কিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এফসি স্লোভাকো ক্লাবের নারী খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে গোপনে ভিডিও করার অপরাধে শুরুতে তাকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড এবং ঘরোয়া ফুটবলে পাঁচ বছরের কোচিং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
আক্রান্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে ছোটজনের বয়স ছিল ১৭ বছর। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভ্লাচোভস্কি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছিলেন এবং অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন।
ভ্লাচোভস্কি এর আগে চেক প্রজাতন্ত্রের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। এফসি স্লোভাকো ক্লাবের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন,‘এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং বেদনাদায়ক একটি ঘটনা, যা ২০২৩ সালে প্রথম সামনে আসে। এটি আমাদের ক্লাব এবং সর্বোপরি ভুক্তভোগী খেলোয়াড়দের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারার পর মুহূর্তেই ক্লাব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, সাবেক এই কোচের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করে। পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে ক্লাব নিজেকে একটি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব, সংবেদনশীলতা ও ভুক্তভোগীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিষয়টি মোকাবেলা করেছে।’
ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিফপ্রো’ এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে ভ্লাচোভস্কির ওপর বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য ফিফার প্রতি উয়েফার করা অনুরোধকেও সাধুবাদ জানিয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে ফিফপ্রো আরও যোগ করেছে,‘এই সিদ্ধান্ত একটি কঠোর এবং জরুরি বার্তা দেয় যে—ফুটবলে কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক এবং অশোভন আচরণের জায়গা নেই। খেলার প্রতিটি স্তরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময়ই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পেতে হবে।’
