×

ভিডিও

ভোটের মাঠে অদৃশ্য খেলা—ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কী?

Icon

হাসান শাব্বির

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কী, নির্বাচন এলেই কেন এই কথা শোনা যায়? এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এমনভাবে প্রভাবিত করা হয় যাতে বিশেষ একটি পক্ষের জন্য পূর্বনির্ধারিত ফলাফল নিশ্চিত করা হয়।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রায় প্রতিদিনই এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে দেখা যাচ্ছে যে, ‘একটি মহল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে' অথবা 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মেনে নেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে।'

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতারাই গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার একে অপরকে ইঙ্গিত করে এসব কথা উচ্চারণ করেছেন।

বাংলাদেশে নির্বাচনকে 'ম্যানিপুলেট' করার জন্যেই মূলত এই প্রক্রিয়া ব্যবহারের প্রচলনের অভিযোগ রয়েছে। ভোট গণণায় কারচুপি, ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার থাকা, প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের ভোটদানে বাধা বা জোর করে ভোট দেয়া, ব্যালট বাক্স চুরি, পোলিং এজেন্টদের বাধা এরকম নানা বিষয় এই পদ্ধতিতে যুক্ত হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ২০০০ সালের পরে বাংলাদেশের নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটি বেশি শোনা গেলেও নানা নামে বা ফরম্যাটে এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এর আগেও দেখা গেছে। এর আগের নির্বাচনগুলো নিয়েও কারচুপি বা সরকারের ইচ্ছামত নির্বাচনী ফলাফল তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করতো এতে কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু এরপরও সেই নির্বাচনে সারা দেশে ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপির ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি, একজন প্রার্থীকে জেতাতে হেলিকপ্টারে করে ব্যালট পেপার ঢাকায় নিয়ে আসার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। তার ইমেজ অতটা ভালো ছিল না। বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বি রশিদ ইঞ্জিনিয়ার খুব জনপ্রিয় নেতা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভোটের দিন এটা যখন স্পষ্ট হতে শুরু করে যে খন্দকার মোশতাক আহমেদ জিতবেন না। ব্যালট পেপার সেখানে গুনতে না দিয়ে, নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। 

পরে নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ৫২ হাজার ৪১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার বিপরীতে মি. রশিদের ভোট ছিল ৩৬ হাজার ৬৩০। কুমিল্লার এই আসনের নির্বাচনটি যে কারণে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনা ছিল।

"স্বাধীনতার পর প্রথম নির্বাচনটি এমনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে তা কেউ ভাবেনি। যে কারণে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাহীনতা সেই শুরু থেকেই জন্ম নিয়েছে"। অর্থাৎ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নাম ধারণ অনেক পরে হলেও ভিন্ন ফরম্যাট বা নামে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছিলো অতীতেও।

টাইমলাইন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে অটোচালকের মৃত্যু

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে অটোচালকের মৃত্যু

নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার

নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার

মৌখিক পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়োগ দেবে সরকার

মৌখিক পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়োগ দেবে সরকার

নির্বাচন স্থগিতের অপপ্রচারে কান দেবেন না

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন স্থগিতের অপপ্রচারে কান দেবেন না

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App