জমি লিখে নিতে বৃদ্ধাকে অপহরণ, আদালতে মামলা
হারিছ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নিতে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১৫ মে সদর উপজেলার বৌলাই পাটধা মছারবাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ১৯ মে ভুক্তভোগী মোছা. হালিমা আক্তারের ছেলে মো. আমির হোসেন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা কলাবাগ গ্রামের মৃত আ. রশিদের ছেলে মকবুল মিয়া (৫৫) ও মো. মাসুদ (৫২), বানকাটা গ্রামের মতিউর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৫২), গজারিয়া আসনপুর গ্রামের মুস্তাকিমের স্ত্রী মোছা. সেলী আক্তার, সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী মোছা. মনোয়ারা আক্তার (৫৩)।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী বৃদ্ধার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন আসামিরা। ঘটনার দিন বাদীর অনুপস্থিতির সুযোগে পরিকল্পিতভাবে হালিমা আক্তারকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়। পরে তাকে একটি বাসায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে জমিজমা লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের সহায়তায় পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীর মেয়ে হাবিবা বলেন, আমার মাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা তাকে উদ্ধার করি। মূলত আমার মায়ের প্রাপ্য পৈত্রিক সম্পত্তি তাকে না দিয়ে তারা নিজেরাই দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। সম্পত্তির লোভেই আমার মায়ের ওপর এমন নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
পাটধা মছারবাইদ গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জিল মিয়া বলেন, আমির তার মায়ের একমাত্র ছেলে। মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কও খুব ভালো। প্রথমে আমরা শুনেছিলাম তার মামা-খালারা চিকিৎসার জন্য বৃদ্ধাকে নিয়ে গেছেন। কিন্তু পরে সম্পত্তির জন্য একজন বৃদ্ধা মহিলাকে এভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সত্যিই অমানবিক।
প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া বলেন, বৃদ্ধা মহিলার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তার ছেলে-মেয়েরাই সেটি দেখভাল করবে। তারা অক্ষম হলে স্বজনরা সহযোগিতা করতে পারতো। কিন্তু ছেলের অনুপস্থিতিতে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে মামলার আসামি মকবুল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমির হোসেন ও তার স্ত্রী মালা দীর্ঘদিন ধরে আমার বোন হালিমা আক্তারের ঠিকমতো দেখভাল করেন না। এমনকি নিয়মিত তিন বেলা খাবারও দেয় না। খাবার ও চিকিৎসার অভাবে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানতে পারি। যেহেতু হালিমা আমার সহোদর বোন, তাই বিষয়টি দেখে কষ্ট পেয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য আমার আরেক বোনের বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে চিকিৎসা শেষে তাকে তার আরেক মেয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন হঠাৎ শুনছি আমাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও সম্পদ লিখে নেওয়ার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে।
