গাড়ি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে নিউজিল্যান্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় গাড়ি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে নিউজিল্যান্ড সরকার। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে পুরোনো একটি আইনের আওতায় গাড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিউজিল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর প্রণীত জ্বালানি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত আইন ব্যবহার করার বিষয়টি কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
জানা গেছে, ওই আইনের আওতায় গাড়ির মালিকদের সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন গাড়ি ব্যবহার না করার জন্য নির্ধারণ করতে হতো। নির্ধারিত দিনে গাড়ি চালাতে ধরা পড়লে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান ছিল। একই সঙ্গে সরকার জ্বালানি ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ করতে পারত এবং কুপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বিক্রির ব্যবস্থা চালু করতে পারত।
আরো পড়ুন : হরমুজে তিন কার্গো জাহাজে হামলা
ইতিহাস অনুযায়ী, ‘গাড়িবিহীন দিন’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থা ১৯৭৯ সালের জুলাই থেকে ১৯৮০ সালের মে পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের বেশি হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এর প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ে এবং অনেক দেশ বিকল্প নীতি গ্রহণে বাধ্য হয়।
নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে জ্বালানি সাশ্রয়ে অতীতের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
