ভারতের ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী ১০৭ মুসলিম প্রার্থী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম ও পদুচেরি—ভারতের এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গড়তে যাচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’। এক দশক পর কেরালায় ফিরছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ।
তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় ৫ রাজ্যের ১০৭ জন মুসলিম প্রার্থীর জয়। এবিপি নিউজের তথ্যমতে, এই ৫ রাজ্যের মোট ৮২৪টি আসনের মধ্যে ১০৭ জন মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্ষমতাসীন বিজেপি ৫ রাজ্যের কোথাও কোনো মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ৪০ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৪৪। এবার তৃণমূল কংগ্রেস ৩৪ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল, যা গতবারের (৪৩ জন) তুলনায় কম। তৃণমূল ও বিজেপি বাদে কংগ্রেসের ২ জন, এজেইউপি-র ২ জন এবং সিপিআই (এম) ও আইএইচএফ-এর একজন করে মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
মুসলিম প্রতিনিধি সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কেরালা। ১৪০টি আসনের মধ্যে ৩৫ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যা মোট আসনের ২৫ শতাংশ। বিজয়ী জোট ইউডিএফ থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) ২২ জন এবং কংগ্রেসের ৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া বামপন্থীদের জোট থেকে ৫ জন জয়ী হয়েছেন।
আসামের ১২৬টি আসনের মধ্যে এবার ২২ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যা গতবারের (৩১ জন) চেয়ে ৯ জন কম। চমকপ্রদ তথ্য হলো, আসামে কংগ্রেসের ১৯ জন বিজয়ীর মধ্যে ১৮ জনই মুসলিম। এ ছাড়া এআইইউডিএফ-এর ২ জন এবং তৃণমূল ও রাইজর দলের একজন করে মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৯ জন মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে টিএমকে-র ৩ জন, আইইউএমএল-এর ২ জন, কংগ্রেসের ১ জন এবং থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে-র ৩ জন রয়েছেন। রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ হলেও বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব মাত্র ৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, কেন্দ্রশাসিত পদুচেরির ৩০ সদস্যের বিধানসভায় একমাত্র মুসলিম বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডিএমকে-র এএমএইচ নাজিম। রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিমদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ না দেওয়াতেই এমন চিত্র উঠে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
