সিদ্ধান্ত বদলে পোল্যান্ডে আরো ৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পোল্যান্ডে সেনা মোতায়েন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অবস্থান বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার দেশটিতে অতিরিক্ত ৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোকির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নাওরোকির নির্বাচনী সাফল্যে তিনি গর্বিত এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হবে।
তবে নতুন সেনা মোতায়েন স্থায়ী হবে নাকি আবর্তনশীল ভিত্তিতে হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এছাড়া জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগন জানিয়েছিল, ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে পোল্যান্ডে আবর্তনশীল ৪ হাজার সেনা মোতায়েন বিলম্বিত করা হবে। ট্রাম্পের নতুন ঘোষণাকে সেই অবস্থান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পেন্টাগনের আগের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলে বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক বিলম্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই অবস্থান পোল্যান্ডে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে দেশটির নেতারা শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
নতুন এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন সুইডেনে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।
ন্যাটো বৈঠকের আগে রুবিও বলেন, যেসব মিত্র দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তাদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন অসন্তুষ্ট।
তিনি স্পেনের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ না দেয়, তাহলে তাদের ন্যাটোতে থাকার যৌক্তিকতা কী।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন। এমনকি তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে ইরাক ও আফগানিস্তানে সেনা পাঠানো এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে আসছে।
অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর ঘোষণায় ট্রাম্প পোল্যান্ডের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোকির সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। গত নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থনের পর নাওরোকির জয়কে অনেকেই অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখেছিলেন।
ঘোষণার পর পোলিশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পোল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র জোট দেশটির জনগণ ও পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় এবং নির্ভরযোগ্য।
