ছাত্রের খাতা লিখছিলেন শিক্ষকরা, হাতেনাতে আটক ৩
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় এক মাদ্রাসা সুপারের ছেলের উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার ঘটনায় তিন শিক্ষককে আটক করেছে র্যাব। তারা বেশ কিছুদিন ধরে বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে এনে জমা দিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় সুপারের ছেলে মোহাম্মদ নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। তবে, আটক তিন শিক্ষকের এদিন পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো ডিউটি ছিল না বলে জানা যায়।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার মহিষকুণ্ডি মুসলিমনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী একই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
র্যাব সূত্র জানায়, বুধবার জীববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহর পরীক্ষার উত্তরপত্র বাইরে থেকে লিখে এনে জমা দেওয়ার কাজ করছিলেন তিন শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তারা বেশ কিছুদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম করে আসছিলেন। বুধবারও একই কায়দায় উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার সময় র্যাব সদস্যরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে যান। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আটক শিক্ষকরা দাবি করেন, মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজে তাদের বাধ্য করেছেন। তাদের ভাষ্য, তারা স্বেচ্ছায় এ কাজ করেননি। তবে, এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, 'ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হই। তদন্ত করে জানতে পারি, আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। আজও র্যাবের হাতে বাইরে থেকে তিনজন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।'
এসি ল্যান্ড প্রদীপ কুমার দাস জানান, যেহেতু ওই তিন শিক্ষক কেন্দ্রের বাইরে র্যাবের হাতে আটক হয়েছেন, তাই তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনি বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
