ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও শিয়া মুসলিম ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে একটি শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
অধিবেশনের শুরুতেই খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ব এক প্রজ্ঞাবান নেতা, প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং দূরদর্শী রাজনীতিককে হারিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায় সংসদ।
শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদ নগরে জন্মগ্রহণ করেন আলী খামেনি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ইরানে সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
আরো পড়ুর : নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু
খামেনির শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক উত্থান প্রসঙ্গে বলা হয়, মাশহাদের ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি নাজাফ ও কোমের উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রে অধ্যয়ন করেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সান্নিধ্যে আসেন এবং ইরানের শাহ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ইরান–ইরাক যুদ্ধ চলাকালে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, এই শোকপ্রস্তাবটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাষান্তর করে ইরানের প্রয়াত নেতার পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
