সাাবেক এমপির দুই ভাইসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা এবং তার পরিবারের তিন সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে সাবেক এক সংসদ সদস্যের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে দুদক।
বুধবার (১১ মার্চ) দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। মামলা দায়েরের আগে সেগুলোর তদন্ত করেছেন সংস্থাটির পিরোজপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং অর্থ হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, তার স্ত্রী রিনা পারভীন এবং ও দুই ছেলে এইচ এম মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত ও এইচ এম ফজলে রাব্বি রিমন এবং পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের দুই ভাই মো. সালাউদ্দিন ও মো. শামসুদ্দিন। মহারাজ পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তার ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তার স্ত্রী রীনা পারভীন এবং দুই ছেলে রিফাত ও রিমনের নামে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন। তাদের নামে থাকা অবৈধ সম্পদের পরিমান প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
আরো পড়ুন: দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আলোচনায় যারা
আব্দুস সাত্তার তার গৃহিনী স্ত্রী রীনা পারভীনের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী পৌরসভার আরামবাগ এলাকায় একটি তিনতলা ভবন, ঢাকার পান্থপথে একটি ফ্ল্যাট এবং আগারগাঁওয়ে একাধিক ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ করেছেন। তবে তার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই।
অপর মামলায় আব্দুস সাত্তার ও তার দুই ছেলের নামে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এলজিইডি’র প্রকল্পে কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে সাত্তার মানিলন্ডারিং করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে সে তার ছেলেদেরকে ব্যবহার করেছে।
অন্যদিকে মহিউদ্দীন মহারাজের এক ভাই সালাউদ্দিনের নামে প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং শামসুদ্দিনের নামে প্রায় ২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সেগুলোকে হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে সাত্তার এবং তার পরিবারের অভিযুক্তদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
পিরোজপুর এলজিইডি অফিস থেকে কাজ না করে আটটি প্রকল্প থেকে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহারাজসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আগেই মামলা করেছে দুদক। এছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং সেই অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মঙ্গলবার মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং তাদের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
