স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ সহ্য করা হবে না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর চেতনাকে ঘিরে কোনো ধরনের ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে হয়তো মন্ত্রী সেজে থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়, কিন্তু প্রকৃত দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সব মানুষের ত্যাগের ফসল। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে যেমন একাত্তরের চেতনাকে ব্যবহার করা হয়েছে, এখন তেমনি জুলাইয়ের চেতনাকেও পুঁজি করার চেষ্টা চলছে।
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তিনি বলেন, এই অর্থ দিয়ে বহু বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল। বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি আহ্বান জানান, কে বড় মুক্তিযোদ্ধা এ বিতর্কে না গিয়ে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ব্যাংক দখল ও লুণ্ঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে ভিন্ন কৌশলে ব্যাংক দখল করা হলেও এখনো এ প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই ধরনের দখলদারি বন্ধ করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত দেড় দশকে অর্থ পাচারের যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে গড়ে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে চলে গেছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, জুলাই চেতনার নামে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধান ও রাজনৈতিক সমঝোতার বাইরে কোনো প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীত রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো হয়েছে। তাই শুধুমাত্র চেতনার রাজনীতি নয়, বাস্তব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাক-স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা সীমাহীন নয়। দেশ-বিদেশ থেকে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ধরনের অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
শেষে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদীয় রীতি মেনে জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনই হওয়া উচিত প্রকৃত রাজনীতি।
