এপস্টিন অধ্যায় ছেড়ে আমেরিকার এগিয়ে যাওয়া উচিত: ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে যৌন পাচার–সংক্রান্ত তদন্তের লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন চাইছেন দেশটি যেন এই বিষয়টি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায়। তবে বাস্তবে তা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, কংগ্রেসে গত নভেম্বরে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হওয়া এপস্টিন–সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। এতে নতুন করে মামলা করার মতো কোনো কারণ পাওয়া যায়নি।
রোববার ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এখানে বিপুল পরিমাণ চিঠিপত্র, অসংখ্য ইমেইল এবং অনেক ছবি রয়েছে। কিন্তু এগুলো কাউকে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করার সুযোগ দেয় না।
বিচার বিভাগের পর্যালোচনা শেষ হলেও ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি পরিষদ এপস্টিন–সংক্রান্ত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়েছে। রিপাবলিকানদের কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার হুমকির পর তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন।
এদিকে কিছু নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের সদস্য ও এপস্টিনের ভুক্তভোগীরা। ফলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো যারা এই অধ্যায় শেষ করতে চান, তাদের জন্য তা সহজ হচ্ছে না।
আপাতত এই বিতর্ক থেকে দৃশ্যত বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতি ছাড়াই বেরিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। তবে যেসব ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্য নথিতে উঠে এসেছে, বিশেষ করে ২০০৮ সালে এপস্টিন দণ্ডিত হওয়ার পরও যারা তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন—তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন।
এর মধ্যে সাবেক যুবরাজ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর, যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন এবং সাবেক মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামার্সের নাম উল্লেখযোগ্য। এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়েছে।
মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ আরো কয়েকজন প্রকাশিত নথিতে থাকা ইমেইল ও নিজেদের নাম থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প বলেন, তার মতে এখন অন্য কিছুর দিকে দেশের এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।
এপস্টিন–সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে কিছুই বের হয়নি। তবে প্রকাশিত নথিতে প্রেসিডেন্টের নাম ছয় হাজারেরও বেশি বার এসেছে। এপস্টিন ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন প্রসঙ্গে তাকে উল্লেখ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের বেশিরভাগ সময় তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়, যদিও ট্রাম্পের দাবি—২০০০ সালের শুরুর দিকে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
২০১১ সালে গিসলেন ম্যাক্সওয়েলকে পাঠানো একটি ইমেইলে এপস্টিন লিখেছিলেন, নথিতে ট্রাম্পের না থাকাটাই একটি সংকেত। ভুক্তভোগী আমার বাড়িতে তার সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছে, তবু তার নাম আসেনি।
শেষ দফায় প্রকাশিত নথিতে এফবিআইয়ের যাচাই না করা কিছু তথ্যসূত্রও প্রকাশ করা হয়, যেখানে ট্রাম্পসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সহায়ক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো বিশ্বাসযোগ্য হলে অনেক আগেই তা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো।
আরো পড়ুন : ক্ষমতাবানদের সহযোগী যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন আসলে কে?
নতুন কিছু ছবি প্রকাশ পেলেও সেগুলো আগে থেকেই জনসমক্ষে থাকা ছবি ও ভিডিওর বাইরে নতুন তথ্য দেয়নি। এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সরাসরি যোগাযোগের কোনো নথিভুক্ত প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের দাবি, ২০০৪ সালের দিকে তাদের বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যায়।
২০০২ সালে এপস্টিনের জন্মদিন উপলক্ষে একটি বইয়ে ট্রাম্প অশালীন একটি নোট লিখেছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তিনি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ না থাকার অর্থ হতে পারে বিচার বিভাগ ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু নথি গোপন করেছে। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার প্রশ্ন তুলেছেন, সব নথি সত্যিই প্রকাশ করা হয়েছে কি না।
এপস্টিনের এক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস বলেন, বিচার বিভাগের পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট নন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং কিছু ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে এপস্টিন ইস্যুতে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, নতুন নথি প্রকাশের পর তা কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ঘরানার একটি বড় অংশ এখন অন্য রাজনৈতিক ইস্যুতে মনোযোগ দিচ্ছে। তারপরও এই বিতর্ক শেষ হয়ে যায়নি। ডেমোক্র্যাটরা প্রকাশিত নথির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ দেখার দাবি জানাচ্ছেন, আর ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন তুলতে পারে।
