থামেথামে চলছে গাড়ি, দুই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হতেই নাড়ির টানে কর্মস্থল ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। ইতিমধ্যেই উত্তরের পথে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা। গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ শিল্প-কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায়। অতিরিক্ত মানুষের চাপ এবং থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একদিকে তীব্র যানজট আর অন্যদিকে বৃষ্টি—এ দুই মিলে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।
সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টায় এ দৃশ্য দেখা যায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা উড়াল সড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগামী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের তীব্রতা সময় বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যানজট নিরসনে হাইওয়ে ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের শতাধিক সদস্যকে মহাসড়কে নিরলসভাবে টহল দিতে দেখা গেছে।
এদিকে, তীব্র যানজটের পাশাপাশি থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে আটকে থাকা যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
জেনিন পরিবহন বাসের চালক আমজাদ সরদার বলেন, ‘জিরানী থেকে চন্দ্রা স্টেশনে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে তার। চন্দ্রা এলাকায় শতশত যাত্রীবাহী বাসের জটলা বেধে আছে। কোনো নিয়ম কানুন না মেনে সড়কের উপর গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানজট আরও বেড়েছে বলে জানন তিনি।’
রফিকুল মিয়া নামে সিরাজগঞ্জ পরিবহন বাসের চালক বলেন, ‘আজ থেকে মানুষের চাপ বাড়ল। এখনি যানজট শুরু হয়েছে। সন্ধ্যার পর যানজট আরো অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে আমরা যারা চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীর জন্য দাঁড়াই, কেউই নিয়ম মানি না। এর প্রভাবটাই পিছনের সড়কে পড়ে।’
তোফাজ্জল হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার ভাই আসছে ঢাকা থেকে। সেই গাড়িতে আমিও যাব। কিন্তু যানজটের কারণে এখনও গাড়ি এসে পৌঁছাতে পারেনি।’
যানজটের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘গার্মেন্টস ছুটি হওয়ার কারণে হঠাৎ করেই মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ওপর থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে গাড়ির গতি কিছুটা ধীর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের শতাধিক পুলিশ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করছি দ্রুতই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
