মার্কিন শুল্ক কমাতে দিল্লিকে যা দিতে হচ্ছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতায় সম্মত হয়েছে ভারত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই সমঝোতার বিভিন্ন দিক প্রকাশ করা হয়। এতে ভারতের পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
একই সঙ্গে সার্বিক শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। এর বিপরীতে ভারতও বেশ কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫ লাখ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের মার্কিন পণ্য আমদানি করতে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি। খবর আনন্দবাজারের।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পণ্য এবং বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর থেকে ভারত হয় শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করবে, নয়তো তা কমাবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শুকনো খাদ্যশস্য, পশুখাদ্যের লাল জোয়ার, বাদাম, তাজা ফল, সয়াবিন তেল এবং ওয়াইন।
এ ছাড়া উভয় দেশ নিজ নিজ স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে একে অপরকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে এমন অশুল্ক বাধা দূর করতেও দুই দেশ কাজ করবে। বিশেষ করে কৃষিখাত ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবসায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের বাজারে মার্কিন চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করতে সম্মত হয়েছে দিল্লি। পাশাপাশি মার্কিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পণ্যের আমদানিতে লাইসেন্সিং-সংক্রান্ত বিলম্বও কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন : রাশিয়ার সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর ভারতের
এই অন্তর্বর্তী সমঝোতার অন্যতম শর্ত হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে খনিজ তেল, গ্যাস, রান্নার কয়লা, বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু এবং প্রযুক্তিপণ্যসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য আমদানি করবে ভারত। ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক পণ্যও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক ও রাবারপণ্য, জৈব রাসায়নিক, অন্দরসজ্জার সরঞ্জাম এবং নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ১৮ শতাংশ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে পারবে ভারত। বিমান ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ দেশগুলো যে শুল্ক দেয়, ভারতকেও একই হারে শুল্ক দিতে হবে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, আমদানি-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও লাইসেন্সিং মান গ্রহণযোগ্য কি না সে বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকে। সংবেদনশীল প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং তৃতীয় পক্ষের বাজারবহির্ভূত নীতির মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই শর্তের মাধ্যমে মূলত চীনকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যদিও যৌথ বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ডিজিটাল বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক নীতি দূর করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, সংবেদনশীল কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে। উদাহরণ হিসেবে ভুট্টা, চাল, গম, সয়াবিন, পোলট্রি, দুধ, চিজ, তামাক, ইথানল, মাংস এবং কিছু সবজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্য সমঝোতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এতে আরো পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হলেও কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা চলবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
