রোববার থেকে দেওয়া হবে হজের ভিসা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামীকাল রোববার ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দৈনিক গালফ নিউজ।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে হাজিদের আগমনের বহু আগেই সেবার প্রস্তুতি জোরদার ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সহজতর করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু হয় গত বছরের ৮ জুন। ওই দিন বিশ্বব্যাপী হজবিষয়ক দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত নথি পাঠায় সৌদি আরব।
সফর মাসের শুরুর দিকে এসকল দপ্তরকে ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর তাবুশিবির সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়; যাতে পরিকল্পনা, পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়।
পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সালের ১ রবিউল আউয়াল থেকে আবাসন ও মৌলিক সেবাসংক্রান্ত প্রাথমিক চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সম্পন্ন করা, পরিচালনাগত তথ্য চূড়ান্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে হজযাত্রী নিবন্ধনের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুমাদাল আউয়াল মাসে বড় ধরনের সেবা চুক্তি স্বাক্ষর এবং সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি হজ সেবা প্রদর্শনী চালু করা হয়।
চলিত বছরের শুরুর দিকে প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পাশাপাশি পবিত্র স্থানগুলোতে পরিবহন ও অন্যান্য সেবার চুক্তি জানুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু হবে। এর পর মার্চে ভিসা চূড়ান্ত করা এবং হাজিদের আগমনের আগের প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় হাজিরা সৌদিতে পৌঁছাতে শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়েই মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।’
হাজিদের আগমনের আগেই অবকাঠামো ও সেবাগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখতে ঘোষিত সময়সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদেশ থেকে আগত হাজিদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোর সব সেবার চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মক্কায় আবাসন সংক্রান্ত চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হাজি নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার হাজি নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি প্যাকেজ বুক করেছেন। পবিত্র স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক হাজিদের জন্য প্রায় ৪৮৫টি তাবুশিবির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৭৩টি হজবিষয়ক দপ্তর তাদের প্রাথমিক চুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করেছে।
সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বলেছে,‘ নুসুক মাসার ও ইলেকট্রনিক ওয়ালেটের মাধ্যমে আর্থিক ও চুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনার ফলে স্বচ্ছতা বাড়ছে, প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে এবং বুকিংয়ে বিশৃঙ্খলা কমছে।’
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় হজবিষয়ক দপ্তর ও সেবা প্রদানকারীদের অনুমোদিত সময়সূচি পুরোপুরি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ হজ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
