আবারো হুমকির মুখে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, উপায় কী?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ২০১০ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। যার নাম দেয়া হয়েছিলো নিউ স্টার্ট চুক্তি। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সেই নিউ স্টার্ট চুক্তি কার্যত শেষ হতে চলেছে।
এর ফলে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিশ্ব জুড়ে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখার কোনো বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ নয়। এমনই এক প্রতিবেদন উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে।
মস্কোর এই ঘোষণার পর জাতিসংঘ নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি ‘গুরুতর মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক মহল। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির মেয়াদ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক ওয়ারহেডের সীমা আরও ১২ মাস বজায় রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভুল এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে মস্কো। নিউ স্টার্ট চুক্তিটি কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ওপর সীমা আরোপ করেছিল। এর আওতায় যেসব অস্ত্র প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামরিক ও শিল্পকেন্দ্রে আঘাত হানার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে সেগুলো ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা ছিল। এই চুক্তিটি ছিল ১০ বছরের জন্য। কিন্তু মেয়াদ শেষে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও পাঁচ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা বাড়াতে এবং শত শত অতিরিক্ত কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করতে পারবে।
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বড় ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং বাস্তবায়নে সময় লাগবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন। তবে জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান ভিন্ন কথা।
একদিকে, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিউ স্টার্ট চুক্তির অবসান বিশ্বকে নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা আরও তীব্র হবে চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর এই প্রথম আমরা এমন এক বিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছি, যেখানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বাধ্যতামূলক সীমা নেই।
