ঝুঁকিতে প্রযুক্তি ও অর্থখাতের নারীরা, নেপথ্যে যে কারণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের বিস্তার এক নীরব পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যার বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে নারী কর্মীদের। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব খাতে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘সিটি অফ লন্ডন কর্পোরেশন’-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাতে কর্মরত নারীরা এআই ও অটোমেশনের কারণে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে কঠোর ও স্বয়ংক্রিয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে অভিজ্ঞ নারী কর্মীরাও পিছিয়ে পড়ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা ‘মিড-ক্যারিয়ার’ পর্যায়ের নারীরা প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের ডিজিটাল পদগুলোতে অবহেলার শিকার হচ্ছেন। এমনিতেই এই খাতে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম।
লন্ডনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ‘স্কয়ার মাইল’ পরিচালনাকারী সংস্থাটি বলছে, নারী আবেদনকারীরা সিভি বাছাইয়ের সময় বৈষম্যের মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বা কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া সন্তান লালন-পালন বা পরিবারের যত্ন নেওয়ার কারণে কর্মজীবনে বিরতিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে না এবং পেশাগত অভিজ্ঞতাকে সংকীর্ণভাবে মূল্যায়ন করছে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে নিয়োগকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, নারী কর্মীদের নতুন কারিগরি দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা প্রয়োজন বিশেষ করে দাপ্তরিক বা ক্লারিক্যাল পদে থাকা নারীদের। কারণ অটোমেশনের ফলে এসব পদ বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
আরো পড়ুন : ব্যবহৃত মোবাইল হস্তান্তরের আগে নিবন্ধন বাতিল বাধ্যতামূলক
তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দশকে প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাতের প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার দাপ্তরিক পদ অটোমেশনের কারণে হারিয়ে যেতে পারে, যার বড় অংশই নারী কর্মী। তবে কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিলে কোম্পানিগুলো ছাঁটাই–সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৭৫ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়োগকর্তাদের প্রার্থীদের অতীত অভিজ্ঞতার পরিবর্তে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিতে সাহায্য করবে।
তবে উদ্বেগজনকভাবে প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার নারী পদোন্নতির অভাব, অবমূল্যায়ন ও কম বেতনের কারণে প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন।
সিটি অফ লন্ডনের মেয়র ডেম সুসান ল্যাংলি বলেছেন, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করলে নিয়োগকর্তারা বড় সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবেন এবং আরো শক্তিশালী কর্মীসংগঠন গড়ে তুলতে পারবেন। মেধা, অভিযোজন সক্ষমতা ও সুযোগের ওপর গুরুত্ব দিলে যুক্তরাজ্য উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক রিক্রুটমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘র্যান্ডস্ট্যাড’-এর জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী আশঙ্কা করছেন যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে তাদের চাকরি হারাতে হতে পারে। এ অবস্থায় শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সিটি অফ লন্ডন কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, একদিকে দক্ষ কর্মীর অভাবে ২০২৪ সালে এই খাতে ১২ হাজারের বেশি ডিজিটাল পদ শূন্য ছিল, অন্যদিকে যোগ্য নারী প্রার্থীরা উপেক্ষিত হচ্ছিলেন, যা এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
কর্মী সংকট মোকাবিলায় অনেক কোম্পানি জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি বেতন দিচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেবল বেতন বৃদ্ধি এই সমস্যার সমাধান নয়। ‘ডিজিটাল ট্যালেন্ট গ্যাপ’ বা দক্ষ কর্মীর ঘাটতি অন্তত ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাজ্য প্রায় ১০ হাজার কোটি পাউন্ডের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হারাতে পারে।
