থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে যে খবারগুলো রাখবেন প্রতিদিনের তালিকায়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিলে ক্লান্তি, ওজনের ওঠানামা এবং শারীরিক অস্বস্তির মতো নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সঠিক খাদ্যাভ্যাস দৈনন্দিন জীবনকে অনেকটাই সহজ করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান নিয়মিত গ্রহণ করলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। ধীরে ধীরে এসব খাবার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া যেতে পারে।
থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যেসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে-
সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
থাইরয়েডের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সেলেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি থাইরয়েড হরমোন টি৩ও টি৪ উৎপাদনে সহায়তা করে। প্রতিদিন দুটি ভেজানো ব্রাজিল নাট খেলে প্রায় ১০০–২০০ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম পাওয়া যায়, যা প্রাকৃতিকভাবে থাইরয়েডের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
আয়োডিনযুক্ত খাবার
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আয়োডিনের ঘাটতির সঙ্গে থাইরয়েড সমস্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। থাইরয়েড গ্রন্থি সুরক্ষিত রাখা ও হরমোন উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ জরুরি। তাই আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন : শীতে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি, বুঝবেন যেভাবে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে সৃষ্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থাইরয়েড গ্রন্থির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বেরি, চেরি ও স্ট্রবেরির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদে থাইরয়েডের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার
জিঙ্ক থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কুমড়োর বীজ জিঙ্কের একটি ভালো প্রাকৃতিক উৎস। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কুমড়োর বীজ ভিজিয়ে বা ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে তা থাইরয়েডের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
প্রদাহ কমানো এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ। তিসির বীজ, চিয়া বীজ ও শণের বীজে এই উপাদান পাওয়া যায়। প্রতিদিন এক চা চামচ তিসির তেল খেলে শরীরের ওমেগা–৩ এর চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস থাইরয়েডের যত্নে সহায়ক হলেও যেকোনো শারীরিক সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
