গোপন আস্তানায় মোজতবা খামেনি, নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন যেভাবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
মোজতবা খামেনি। ছবি- সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় আহত হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের দাবি, বিমান হামলা ও গুপ্তহত্যার হাত থেকে বাঁচতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছেন তিনি। বর্তমানে কোনো এক অজ্ঞাত ও সুরক্ষিত আস্তানায় তার দিন কাটছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানায়, বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো এক জটিল ‘কুরিয়ার বা রানার নেটওয়ার্ক’। সেখানে যোগাযোগের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। আর এই অতি-গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাকারী ইরানি কর্মকর্তারা। খামেনির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যেকোনো নতুন প্রস্তাব পাঠানো হলে তা সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতেই দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং মার্কিন প্রশাসনকে উত্তরের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অবশ্য এই গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে চূড়ান্ত চুক্তির আভাস দিয়ে পোস্ট করার আগেই বর্তমান খসড়া চুক্তির মূল বিষয়গুলোতে সম্মতি দিয়েছিলেন মোজতবা খামেনি। তিনি তার অধীনস্থদের চুক্তির মূল শর্ত এবং আলোচনার সীমাবদ্ধতাগুলোও বুঝিয়ে দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের দাবি, তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির (যিনি ১৯৮৯ থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরান শাসন করেছেন) পরিণতি এড়াতেই মোজতবা এই চরম পন্থা বেছে নিয়েছেন। যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে হত্যা করেছে। এর ফলে ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই এখন প্রকাশ্যে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ মাটির নিচে অত্যন্ত সুরক্ষিত বাঙ্কারে কাটাচ্ছেন।
এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, ইরানি নেতাদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা দেখতে অনেকটা কমেডি নাটকের মতো। তারা নিজেরাও এই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সম্পূর্ণ বিরক্ত। তবে সব নেতার মধ্যে সবচেয়ে কঠোর ও সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছেন খামেনি নিজে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও জানা নেই তিনি ঠিক কোথায় আছেন। তার অবস্থান গোপন রাখতে তৈরি বিশেষ কুরিয়ার নেটওয়ার্কের কারণে প্রতিটি তথ্য পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগছে এবং প্রতিক্রিয়া আসতেও দেরি হচ্ছে।
